রেড বুল প্রতিদিন খাচ্ছেন আজকেই সচেতন হয়ে যান: জেনে নিন আপনার শরীরের সাথে কি ঘটতে পারে

বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় একটি এনার্জি ড্রিংকস এর মধ্যে অন্যতম রেড বুল এনার্জি ড্রিংক। ২০১৯ সালে মার্কেটিং সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে রেড বুল এক বছরে প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ক্যান বিক্রি করেছে, এখান থেকেই রেড বুলের পরিচয় পাওয়া যায় মার্কেটে রেডবলের চাহিদা কতটা রয়েছে। তবে আপনাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্কসটি পান করে থাকেন, তারা রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্ক সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেনা সেই তথ্য নিয়ে এসেছি আজকের এই প্রতিবেদনে।
রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্কস (Redbull Energy Drinks) ১৯৭৬ সালে প্রথম এই এনার্জি ড্রিংসটিকে মার্কেটে এনেছিলেন থাইল্যান্ডের এক বিজনেসম্যান চলিও ইয়োবিধা। চলিও ইয়োবিধা মাত্র ২৬ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের কৃষি ফার্মাসিটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামক ওষুধ বিক্রির সংস্থা খোলেন, পরে ১৯৬২ সালে লিকো ভিটা-ডি নামে একটি এনার্জি ড্রিঙ্কস বাজারে আসে যা ধীরে ধীরে বহু মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চলিও ইয়োবিধা লিকো ভিটা-ডি র জনপ্রিয়তা এবং বাজারের চাহিদা বুঝতে পারে এবং তিনি লিকো ভিটা-ডি মধ্যে কিছু রেসিপি পরিবর্তন করে। থাইল্যান্ডের কিছু শ্রমিক ও কিছু ড্রাইভার এই সমস্ত মানুষের কথা মাথায় রেখে যাতে এটা সহজেই সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় এর জন্য এর দাম ও স্বাদএমন ভাবে তৈরি করে যাতে সকলেরই পছন্দ হয়ে ওঠে এই এনার্জি ড্রিঙ্কসটি।
ধীরে ধীরে এই এনার্জি ড্রিঙ্কস টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং তখন এই এনার্জি ড্রিঙ্কস টির ক্রেটিং ডেইং নাম রাখা হয়“ক্রেটিং কথার অর্থ হলো লাল” ও “ডেইং কথার অর্থ হল বুল” সেই সময় তার বানানো এই এনার্জি ড্রিঙ্কসটি, সাধের সাথে সাথে অনেক সস্তায় পাওয়া যেত তাই বাজারে আসার সাথে সাথে এই এনার্জি ড্রিঙ্কস টি থাইল্যান্ডের ভেতর প্রচুর পপুলারিটি অর্জন করে নেয় । এই এনার্জি ড্রিঙ্কসটি প্রথম থাইল্যান্ডের সিসিতে করে বিক্রয় হতো যা শুধুমাত্র মেডিক্যাল ফার্মেসী গুলিতেই পাওয়া যেত। এই কোম্পানিটি থেকে প্রথম বছর প্রমোশন করানোর জন্য থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত করা হয় এক বক্সিং সো যেখানে স্পন্সার দেয়া হয় ক্রেটিং ডেইংকে, সাহসী পদক্ষেপ ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে ধীরে ধীরে ক্রেটিং ডেইং এই কোম্পানিটি থাইল্যান্ডের নাম্বার ওয়ান এনার্জি ড্রিংকস কোম্পানি হয়ে ওঠ।
এর কিছু বছর পর ১৯৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার এক বিজনেসম্যান ডিট্রিচ মাতসিকাস থাইল্যান্ড সফরে আসে বিজনেস কারণে আসার সময় তিনি প্লেনেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সেই সময় এক হোটেলে রাত কাটাচ্ছিলেন এবং সেই সময় হোটেল ক্লিনার তাকে বলেন তার শরীরের অসুস্থতা ও ক্লান্তি দূর করার জন্য আপনি থাইল্যান্ডের লোকাল এনার্জি ড্রিঙ্কস পান করুন আপনার সমস্ত দুর্বলতা ও সুস্থতা সঠিক হয়ে যাবে এবং তখন সেই ক্লিনার তাকে ক্রেটিং ডেইং নামে ওই এনার্জি এনে দেয় এবং তিনি পান করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তার শরীরে দুর্বলতা অশ্লীলতা সমস্ত কিছু দূর হয়ে যায় তখন তিনি ওই ক্রিমিনাল কে বলে আমি এই কোম্পানির মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে চাই। আর সেই সূত্র ধরেই পৌঁছে যাই সেই ফার্মেসিতে ধীরে ধীরে কোম্পানির মালিক অর্থাৎ চলিও ইয়োবিধা-র সাথে দেখা করেন, সেই সময় ডিট্রিচ থাইল্যান্ডে এক টুথপেস্ট কোম্পানির মার্কেটিংয়ের জন্য এসেছিলেন। তাই তিনি জানতেন কিভাবে এই ব্র্যান্ড টিকে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে প্রমোশন করলে ভালো লাভবান হওয়া যাবে এই যুক্তিটাই তিনি চলিও ইয়োবিধাকে দিয়েছিলেন যদি আপনার ব্র্যান্ড থেকে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে নিয়ে আসবে তবে আপনার ব্যবসা আরো বেশি বাড়বে আপনি দ্রুত এগিয়ে যাবেন তাই তারা দুজন মিলে সেই সময় 500K ডলার ও 500K ডলার বিয়োগ করে এই ব্র্যান্ডটিকে 49% + 49% শেয়ার নিয়ে ব্র্যান্ড টিকে অস্ট্রিয়া তে লঞ্চ করে এবং বাকি দুই শতাংশ চলিও ইয়োবিধা তার ছেলেকে শেয়ার দিলেন।
কোম্পানিটি চালানোর ভার নিলেন ডিট্রিচ মাতসিকাস, দুজনে সম্মতিতে ডিট্রিচ এই এনার্জি ড্রিংসটির স্বাদ আরো বাড়ানোর জন্য ড্রিংক এর ভেতর কার্বনেট ওয়াটার যুক্ত করেন বাকি সমস্ত ফর্মুলা গুলো একই রাখা হয়েছিল। এইভাবে সবকিছুই ঠিকঠাক চলার পর হঠাৎ করে ১৯৮৭ সালে এই এনার্জি ড্রিংসটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Redbull Energy Drinks।
অস্ট্রিয়াতে লঞ্চ হওয়ার পর এই কোম্পানিটির স্লোগান ছিল “Red bull Give You Wings” রেড বুল নামকরণের জন্য ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে সহজেই এর পরিচিতি লাভ করে। এই সময় অস্ট্রিয়াতে রেড বুল কোম্পানির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো এনার্জি ড্রিঙ্কস নেই উপলব্ধ ছিল না। প্রথম বছর এই ব্রান্ডটি মার্কেটে আসতেই ১০ লক্ষ জ্ঞান বিক্রয় হয়, প্রথম দুই এক বছর এই কোম্পানিটির ভালোই চলছিল পরবর্তীতে এই কোম্পানিটির বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন করতে হয়। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েও আজ রেড বুল কোম্পানিটি বিশ্বে সবথেকে জনপ্রিয় একটি একটি বৃহত্তর এনার্জি ড্রিংস কোম্পানি।
রেড বুল কি দিয়ে তৈরি হয় ! রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্কস কি দিয়ে তৈরি হয় ?
রেড বুলের প্রতিদ্বন্দ্বিত করা কোম্পানিগুলির বর্তমান স্লোগান রেড বুলের ভেতর স্যারের বীর্য থাকে যাকে, এর কারণ রেডবুল এর ভেতর টিউরিন থাকে বলে আর এই টরিন স্যারের বীর্য থেকে তার উৎপন্ন করে তারা। বাস্তবে এই কথাটির সাথে কোন মিল নেই কারণ রেড বুল কোম্পানিটি সম্পূর্ণ ল্যাবের মাধ্যমে ভেষজ উপায় টরিন নামক উপাদানটি উৎপন্ন করে এই উপাদানটি মানুষের শরীরে ও উপস্থিত থাকে গরুর দুধ ইত্যাদিতে এই উপাদানটি থাকে।
রেড বুল তৈরির উপাদান গুলিঃ রেড বুল (Red Bull) একটি বিশ্ববিখ্যাত এনার্জি ড্রিংক, যা শরীর ও মস্তিষ্ককে দ্রুত সতেজ করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এই পানীয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর উপাদানসমূহ, যেগুলো শরীরে শক্তি যোগায় ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে। রেড বুলের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ক্যাফেইন, যা চা ও কফির মতোই স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং ঘুমভাব দূর করে। এতে রয়েছে টাউরিন (Taurine) নামক একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও এতে বি-গ্রুপ ভিটামিন (Vitamin B3, B5, B6 ও B12) রয়েছে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনগুলো খাবার থেকে প্রাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে, ফলে শরীর দ্রুত এনার্জি পায়।
রেড বুলে আরও থাকে চিনি (Sucrose ও Glucose), যা শরীরকে তাত্ক্ষণিক শক্তি জোগায়। তবে যারা চিনি খেতে চান না, তাদের জন্য শুগার-ফ্রি রেড বুল পাওয়া যায়, যেখানে ক্যালোরি খুবই কম। এতে ব্যবহৃত হয় কার্বনেটেড পানি, যা পানীয়টিকে ফিজি করে তোলে এবং পান করার সময় সতেজ অনুভূতি দেয়। আরেকটি উপাদান হলো গ্লুকুরোনোল্যাকটোন (Glucuronolactone), যা শরীরে টক্সিন দূর করতে এবং শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে অল্প পরিমাণে ফ্লেভারিং এজেন্টস ও অ্যাসিডুলান্টস যোগ করা হয়, যা পানীয়ের স্বাদকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
সব মিলিয়ে, রেড বুলের উপাদানগুলো একসঙ্গে কাজ করে শরীরে শক্তি ও সতেজতা প্রদান করে। তবে অতিরিক্ত সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেমন হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, ঘুমের সমস্যা বা অতিরিক্ত উত্তেজনা। তাই সীমিত পরিমাণে পান করলেই রেড বুল উপকারি হতে পারে।
রেড বুল এনার্জি ড্রিংসের উপকারিতা কি ?
আমরা রেডবুল এর কাছ থেকে আশা করি শরীরের দুর্বলতা ক্লান্তি দূর করার জন্য শরীরকে সতেজ করার জন্য এই সমস্ত প্রক্রিয়াটি করার জন্য রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্ক সাহায্য করে। থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে যে সমস্ত যুবক-যুবতীরা রয়েছে তারা সব থেকে বেশি রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্কস পান করে থাকে। ক্রীড়াবিদরা সবথেকে বেশি রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করে থাকে তাদের হতাশা ও ক্লান্তি দূর করার জন্য এছাড়াও যে সমস্ত ছেলেরা জিম করে স্পোরসের সাথে যুক্ত তারা রেড বুল পান করে নিজের শরীরকে পুনরায় সুস্থতা অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। সেনাবাহিনীতে র্যালি হোক তোমরা দূরে কোন দৌর প্রতিযোগিতা সব ক্ষেত্রেই রেড বুল এলইডিটিং প্রথম চয়েজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রীড়া প্রেমীদের ওপর।
রেড বুল এনার্জি ড্রিঙ্কস পানের ক্ষতিকারক প্রভাব
এই পানীয়তে উচ্চ মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে, যা সাময়িকভাবে সতেজতা ও মনোযোগ বাড়ালেও শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন সেবনের কারণে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ঘুমের সমস্যা এবং উদ্বেগজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এতে অতিরিক্ত স্নায়বিক উত্তেজনা তৈরি হয়, যা মাথাব্যথা, ঝিমঝিম ভাব বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
রেড বুলে থাকা চিনি (Sucrose ও Glucose) শরীরে তাত্ক্ষণিক শক্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে। যারা শুগার-ফ্রি রেড বুল পান করেন, তারাও নিরাপদ নন, কারণ এতে ব্যবহৃত কৃত্রিম সুইটনার শরীরে অন্য ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে পেটের গ্যাস, হজমের সমস্যা ও ডিহাইড্রেশন হতে পারে।
এছাড়াও, টানা রেড বুল সেবন করলে শরীর ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে কেউ যদি হঠাৎ এটি পান করা বন্ধ করে দেন, তখন মাথাব্যথা, অবসাদ ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো উইথড্রয়াল সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। আরও বড় সমস্যা হলো, অনেক তরুণ রেড বুল অ্যালকোহলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং হৃদরোগ ও স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, গর্ভবতী নারী, শিশু ও হৃদরোগী ব্যক্তিদের জন্য রেড বুল একেবারেই উপযোগী নয়। সঠিক পরিমাণে সেবন করলে এটি সাময়িক শক্তি দিলেও, নিয়মিত বা অতিরিক্ত সেবন শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই রেড বুল পান করার আগে অবশ্যই এর ক্ষতিকারক দিকগুলো মনে রাখা উচিত এবং সীমিত মাত্রায় সেবন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।




